মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩

সাদাকালো যুগের ছবি

সাদাকালো যুগের ছবি

সাদাকালো যুগের ছবি

বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২

 

 

৩৯ বার পড়া হয়েছে

সমরেশ বৈদ্যঃ
হঠাৎ পুরনো কাগজপত্রের মধ্যে এই কার্ডটি। ছবিটি কিন্তু ১৯৯৬ সালের নয়। তখনও ফটোগ্রাফিতে শখ ছিল প্রচন্ড। রিপোর্টিং এর পাশাপাশি ফটোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির পাশাপাশি রিপোর্টিং আমার কাছে সবসময়েই একজন সংবাদকর্মী হিসেবে একে অপরের পরিপুরক মনে হয়েছে সবসময়। প্রসঙ্গতঃ ওই সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে বিজয়ী দল হিসেবে সরকার গঠন করেছিল। দুঃখের বিষয় আমার তোলা কোন ছবির ফিল্মই নেই। নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্যামেরাটি রয়েছে কোনভাবে। মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে আবার নতুন ক্যামেরা নিয়ে মাঠে নামি। কিন্তু ক্যামেরার যা দাম তাতে শখ তুলে রেখেছি বন্দীখানায়। তবে তখন যা যা ব্যবহার করতাম পেশাগত কাজে সেগুলো কোনভাবে রয়ে গে়ছে। কেন জানি মনে হয় আমাদের সেই ফিল্ম যুগের সময়টাই যেনো স্বর্নযুগ ছিল। ছবিতো শুধু তুললেই হোলোনা। তা নিয়ে ডার্করুমে ঢোকা। কত দ্রুত ছবি বাছাই করে প্রিন্ট করতে হোতো সেই সাদাকালো যুগে।

শুধু কি ছবি বাছাই? তা দ্রুত ঢাকা অফিসে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। আবার ছবির ওপরে যুৎসই ক্যাপশন বা ফটোফিটার লিখে পাঠাতাম ঢাকায়। এমনও দিন গেছে হয়তো মাসের ৩০ দিনের মধ্য কমপক্ষে ২৫ দিনই ভোরের কাগজে দৈনন্দিন চলমান ঘটনার ছবি ছাড়াও ফটোফিচার ছাপা হতো। এজন্য অবশ্য ভোরের কাগজের সাবেক মফস্বল সম্পাদক প্রিয় লতিফ ভাই ও তাঁর অন্যতম সহযোগী রমেন বিশ্বাস এর ভূমিকা ছিল বেশি। এমনও দেখা গেছে, অনেক সময় ঢাকায় আমার সহযোদ্ধা আলোকচিত্র সাংবাদিকদের চেয়েও মফস্বলে থাকা এই ‘ অগা’ র তোলা ছবি/ ফিচার ছাপা হোতো বেশি। তাতে অবশ্য আমার সব সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কটি বরং দৃঢ় হয়ে উঠিছিল। সে এক মধুর- আনন্দময় ঐতিহ্যের সময় ছিল।

সেই সাদাকালো পত্রিকা/ সাদাকালো ছবির যুগে দিনের ছবি দিনে ঢাকায় ছবি পাঠানোর ঝক্কিও যে কি ছিল তা হয়তো আজকাল কেউ চিন্তা করতে পারবেন না। সকালে কোন ঘটনা ঘটলে দ্রুত ছবি প্রিন্ট করে প্যাকেটে ঢুকিয়ে ঠিকানা লিখে ঢাকাগামি বাস সোহাগ/ গ্রীনলাইনের কাউন্টারে দৌড়াতাম। সেখানে পরিচিত গাইডদেরকে কিছু চা- পানির উপহার দিয়ে তা ঢাকায় বাস কাউন্টারে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতাম। ঢাকা অফিসে ফোন করে বললাম বাস কাউন্টার থেকে ছবি সংগ্রহ করার জন্য। আবার অনেক সময় চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ছুটতাম দুপুরে ঢাকাগামী ট্রেন ধরার জন্য। ভাবেননা যে আমি চলে যেতাম ঢাকায় ছবি বা ছবির ফিল্ম নিয়ে। সেখানেও ট্রেনের সহৃদয় এ্যটেনডেন্টদের সহায়তায় ছবির প্যাকেট বা ফিল্ম ঢাকা অফিসে রাতেই পত্রিকা ছাপার আগে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতাম। আনন্দ ও সুখকর বিষয় ছিল– বাস/ ট্রেন এর এ্যটেনডেন্টরা বেশ আগ্রহের সঙ্গেই সহযোগিতা করতেন। আবার অনেক সময় দেখা হলেই বলতেন– ভাই/ দাদা, আপনাদের পেপারেতো বেশ ভালো করেই ছবি ছেপেছে। সত্যি তাঁদের এই অবদান কখনো ভোলার নয়। এভাবে পাঠানো ছবির জন্য আমাদের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক মঞ্জু ভাই ( বর্তমানে দৈনিক সমকালের সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু), কখনো যুগ্ম বার্তা সম্পাদক অমিত’ দা ( প্রয়াত অমিত হাবিব) ফোন দিতেন চট্টগ্রাম অফিসে। সে এক উৎকন্ঠা ছিল ছবি ঢাকা অফিসে না পৌঁছানো পর্যন্ত।

তবে, একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বিশেষ করে তৎকালীন উত্তাল রাজনৈতিক আন্দোলনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ছবি তারপরদিন নিজের নামে যখন ‘ ভোরের কাগজ’ এ ছাপা দেখতাম তখন কাজের উৎসাহ বেড়ে যেতো আরো। আবার এমনও হয়েছে– অনেক ছবি’র জন্য তৎকালীন সম্পাদক মতি ভাই ( মতিউর রহমান, বর্তমানে প্রথম আলো সম্পাদক), বা ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বেনজির আহমেদ ( প্রয়াত) প্রশংসা করতে কৃপণতা করেননি। অপরদিকে, ফিচার ছবি’ র জন্য লতিফ ভাই+ রমেন দা এতটাই বিরক্ত বা আরক্ত হতেন যে, আমার পাঠানো ছবি/ ফিচার ছেপে সেগুলোর ফলোআপ বিষয়েও জানতে চাইতেন। একটা পর্যায়ে আমাকে ঢাকা অফিসে নিয়ে যাওয়ার নানা প্রস্তাবও দেয়া হয়। বারং বার তা অব্যাহত ছিল। কিন্তু এই আমি ‘ মফস্বলী- গেঁয়ো- নাদান’ পাবলিক রাজধানী ঢাকা’ র সাংবাদিক হতে পারলাম না। কারন আমার ‘ রক্ত- মাংসে- অস্তিত্ব- মননে’ রয়েছে গ্রাম। মানে চট্টগ্রাম। তাই এই পেশাগত জীবনের প্রায় ৩০ বছরে রাজধানী ঢাকা’য় স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার অনেক সুযোগ বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। এজন্য অনেক আমাকে ‘বোকা’, ‘ অদূরদর্শি’সহ আরও অনেক সমালোচনাই করেন। আমি মাথা পেতে নেই সেসব। তখন সাংবাদিকতায় যেসব যন্ত্র ( ক্যামেরা, টেপরেকর্ডার) ব্যবহার করতাম তার ছবিও দিলাম। হয়তো ধান বানতে শিবের গীত গেয়ে ফেলেছি। সেজন্য দুঃখিত। সবার জন্য শুভকামনা।

ট্যাগ :

আরো পড়ুন