সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

সংসদে কে হবেন বিরোধী দলীয় নেতা

সংসদে কে হবেন বিরোধী দলীয় নেতা

সংসদে কে হবেন বিরোধী দলীয় নেতা

রবিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

 

 

৭৬ বার পড়া হয়েছে

প্রিয় পাঠকঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন চলতে শুরু করেছে। ছোটবড় প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল এই ট্রেনে উঠে গেছে।কিন্তু নির্বাচনের ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি সহ বেশ কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দল।এখন পর্যন্ত্য যে পক্রিয়া দৃশ্যমান তাতে বড়ধরনের কোন নাটকীয়তা না ঘটলে বিএনপিকে ছাড়াই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যাগরিষ্ট হয়ে আবারোও আওয়ামীলীগের ক্ষমতাসীন হওয়া সময়ের ব্যাপার। প্রশ্ন উঠেছে সংসদে প্রধান বিরোদী দল কারা হবে। বিরোধী দলীয় নেতার আসনে কে বসবে?

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি একটি ভিন্ন ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে কারা বিজয়ী হবে তা নিয়ে কারোরই কোন সন্দেহ নেই। বিএনপি-জামায়াত জোট যখন এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না তখন এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আওয়ামী লীগ যে আবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে এবং সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, এটি নিয়ে কারও কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে মজার যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হল কারা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সংসদের দায়িত্ব পালন করবে। শেষ পর্যন্ত যদি ৭ জানুয়ারি নির্বাচন হয় তাহলে এই নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রধান আকর্ষণ হবে কে হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল?

এর আগে গত তিনটি নির্বাচনে একটিতে বিএনপি প্রধান বিরোধী দল ছিল। অন্য দুটিতে জাতীয় পার্টির প্রধান বিরোধী দল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল। ২০০৮ এর নির্বাচনে বিএনপি বিরোধী দল হয়। ২০১৪ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে। আর ২০১৮ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলেও তারা তৃতীয় হয়েছিল। জাতীয় পার্টি দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল। যদিও ওই নির্বাচনকে বিএনপি গ্রহণযোগ্য মনে করে না। গ্রহণযোগ্য মনে না করলেও সেই নির্বাচনের পর বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদে গিয়েছিল এবং প্রায় পুরোটা সময় সংসদে থাকার পর তারা শেষ মুহূর্তে এসে পদত্যাগ করেছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিএনপি না থাকলেও তিনটি রাজনৈতিক দল আলোচনা আছে। এই তিনটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে যেকোনো একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকার সম্ভবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যে দুটি রাজনৈতিক দল আলোচনায় এসেছে সেই দুটি দল এবং জাতীয় পার্টি রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময় আলোচনায় আসা দলগুলোর মধ্যে একটি হল বিএনএম। বিএনএম এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক বিএনপি নেতা শাহ্ আবু জাফর। তিনি ফরিদপুরের একটি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনএম এবার যে আসনগুলোতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তার মধ্যে কয়েকটি আসনে তারা ভালো ফলাফল করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। বিশেষ করে ফরিদপুরের আসনে বা শাহ্ আবু জাফর সহ আরও কয়েকটি আসনে তারা চমকে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত ৮২টি আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও যদি বিএনএম দ্বিতীয় প্রধান দল হিসেবে আবির্ভূত হয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেক্ষেত্রে শাহ্ আবু জাফর বিরোধী দলের নেতা হবেন।

এই নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপিকে নিয়ে অনেক আলাপ আলোচনা এবং প্রত্যাশার জায়গা ছিল। তৃণমূল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, তারা তিনশ আসনে প্রার্থী দিবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা তিনশ আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। তিনশ আসনে প্রার্থী দিতে পারুক না পারুক তৃণমূল বিএনপির অনেকগুলো আসনেই ভালো ফল করবে। বিশেষ করে তৃণমূল বিএনপির সভাপতি এবং মহাসচিব এই নির্বাচনে ভালো ফলাফল করবেন। তৃণমূল বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দল হন বা দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সেক্ষেত্রে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী হতে পারেন বিরোধী দলের নেতা।

জাতীয় পার্টি গত দুবারের বিরোধী দল। এবারও জাতীয় পার্টির ২৮৭ টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। আওয়ামী লীগের পরই তারা সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তবে জাতীয় পার্টির অবস্থা আগের মতো নেই। তাছাড়া দলের মধ্যে নানা রকম বিভক্তি এবং অর্ন্তকলহ রয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে তারা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জায়গা করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি যদি নির্বাচনে দ্বিতীয় দল হয় সেক্ষেত্রে জিএম কাদের হবেন বিরোধী দলের নেতা।

ট্যাগ :

আরো পড়ুন