সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

শাস্তি

শাস্তি

শাস্তি

বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৩

 

 

৪৪ বার পড়া হয়েছে

বিভা ইন্দুঃ
আজকেও জাইমা দাঁড়িয়ে আছে। উদাস চোখে কী যেন দেখছে। পেছনের সারির ছাত্রী! না না। চটপটে, কথাবার্তায় সাবলীল,আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের যে কোন বিষয় তার ঠোঁটের আগায়।যে কোন কুইজ প্রতিযোগিতায় সবার আগে ও।
উপস্থিত বক্তৃতায়,যখনই যা ওর ভাগ্যে উঠেছে ও একটুখানি সময় ভেবে নিয়েই বলতে শুরু করে।একের পর এক পয়েন্ট দিয়ে সুন্দরভাবে কমপক্ষে দশমিনিট সে বলে যায়।সারা অডিটোরিয়াম জুড়ে মুহুর্মুহু তালি, উচ্ছ্বাস।
গেলো বছর ” দৃষ্টি প্রথমআলো ” বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দশটি স্কুলের সেরা সব তার্কিককে যুক্তিতে ঘায়েল করে সে হয়ে গেলো সেরাদের সেরা।

স্কুলে নিয়ে এলো চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও সেরা তার্কিক এর ক্রেস্ট।
অথচ শ্রেণিকার্যক্রমে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না।আনন্দমোহন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী জাইমা।মা বাবার একমাত্র সন্তান।মা পারভীন জিনাত ব্যাংকার।বাবা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এর গুনী প্রকৌশলী।
জাইমার বিরুদ্ধে বিষয় শিক্ষকদের অভিযোগের শেষ নেই। জাইমার মা বাবারও শান্তি নেই। স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের মুখ থেকে জাইমার বিরুদ্ধে বহুমুখী অভিযোগ তাঁদের নীরবে শুনতে হয়।
সব কিছু শোনার পর জাইমার পক্ষেই মা বাবার দৃঢ় অবস্থান। ওকে নিয়ে মা বাবার প্রশংসার শেষ নেই ।বরং প্রধান শিক্ষককে বলেন, জানেন ম্যাম আমাদের বাসায় ফিরতে দেরি হলে মেয়েটা সমস্ত খাবার সাজিয়ে টেবিলে বসে থাকে।কখন আমরা ফিরবো অপেক্ষায় থাকে।মাঝে মাঝে নতুন নতুন পদ ইউটিউব দেখে রান্না করে।কেক তৈরি করে।ঘর সাজানোর বিভিন্ন শোপিস ও নিজের হাতে তৈরি করে।
রবীন্দ্র নজরুল জীবনানন্দ শামসুল হক আল মাহমুদ হেলাল হাফিজ এর কবিতা আবৃত্তি করে মোবাইলে রেকর্ড করে।
প্রধান শিক্ষক ফরিদা রহমান উনাদের কথার মাঝখানে থামিয়ে দেন।
এসব শুনে কী করবো? ফরিদা ম্যামের রাগত কন্ঠস্বর।
একটা ক্লাস শেষ হতে না হতেই ও ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়।
পরের ক্লাসের শিক্ষক ক্লাস ক্যাপ্টেনকে পাঠায় জাইমাকে খুঁজতে। স্কুলের কোথাও জাইমা নেই। সে কী!

ট্যাগ :

আরো পড়ুন