বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২

মাদক সম্রাট হানিফ গ্রেফতার,উত্থানের নেপথ্যে এক প্রভাবশালী নেতা

মাদক সম্রাট হানিফ গ্রেফতার,উত্থানের নেপথ্যে এক প্রভাবশালী নেতা

মাদক সম্রাট হানিফ গ্রেফতার,উত্থানের নেপথ্যে এক প্রভাবশালী নেতা

বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২

 

 

৯২ বার পড়া হয়েছে

প্রিয় পাঠকঃচট্টগ্রাম নগরীর কালুরঘাটে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া মাদক ব্যবসায়ী হানিফকে তার ৫ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলো- পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার লোকমান সওদাগরের ছেলে মো. হানিফ খান (২৬) ও হিজড়া মো. ইয়াছিন (২৪), চান্দগাঁও থানার মধ্যম মোহরার মৃত রফিকের ছেলে মহিউদ্দিন শরীফ (২৩), পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার আন্দুয়া এলাকার মোশাররফ শিকদারের ছেলে রেজাউল করিম (২২) ও নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার ভটিরটেক এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে হৃদয় (৫১)।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুর রহমান চৌধুরী বলেন, গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হানিফকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তার সহযোগী ও ট্রান্সজেন্ডাররা। তাদের ধরতে পুলিশ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালায়। পরে মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ডে ঢাকাগামী একটি বাস থেকে হানিফ ও তার ভাই ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট ফাঁড়িতে হামলা করে ছিনিয়ে নেওয়া সেই মাদক ব্যবসায়ী হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। একইসঙ্গে তার ভাই কথিত হিজড়া ইয়াসিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা গেছে,পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জের বাসিন্দা হানিফ মোহরার ৯ নম্বর ও ৮ নম্বর রেল লাইন কেন্দ্রিক ইয়াবা-মদসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। তার একাজে হিজড়া নামধারী বিশাল বাহিনী রয়েছে তার। সরকারদলীয় কতিপয় নেতাদের ভাগ বাটোয়ারা দিয়ে দেদারসে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল হানিফ। তার নামে মাদক-খুনসহ একাধিক মামলা থাকার পরও পুলিশের একাধিক অভিযানে সে ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশি অভিযানে তার সহযোগিরা আটক হলেও সে সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় রহস্যজনক কারণে। জানাগেছে, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার ছএছায়ায় হানিফ তার মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় একটি সূএ জানায়, হানিফের মাদক ব্যবসার মূল হোতা মোঃ জাবেদ। সে ভাগিনা জাবেদ নামে পরিচিত।হানিফের মাদক ব্যবসার প্রায় সবকিছু নিয়ন্ত্রন করতো এই জাবেদ।পুলিশ সহ রাজনৈতিক গডফাদারদের লিয়াজো করে এই জাবেদ।কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির হামলার সাথেও জাবেদ জড়িত বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ আলী হোসেন সিভয়েসকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাত ১১টার দিকে হানিফ ও তার ভাই ইয়াসিনকে ভাটিয়ারি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করি। সম্ভবত তারা নিজ এলাকা পটুয়াখালী অথবা ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিল। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মাদককারবারি ভাইকে ছিনিয়ে নিলেও গুলিতে জীবন গেল বোনের, ফের পুলিশের সাড়াশি অভিযান হানিফের ডেরায়

উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ৯ নম্বর পুলের গোড়ায় হানিফের বাসা থেকে চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রোকনুজ্জামান মাদক কারবারি হানিফ ও শরীফকে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। আটকের কিছুক্ষণ পরই কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে হানিফ ও শরীফকে ছিনিয়ে নেয় তার সহযোগিরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে হানিফ বাহিনীর সংঘর্ষ হলে হানিফের বোন নাজমা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন। এমনকি চান্দগাঁও থানার ওসিসহ সিএমপি থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ সেখানে গেলেও হানিফকে নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারেনি পুলিশ।

ট্যাগ :

আরো পড়ুন