সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

ভোজ্যতেল নিয়ে খেলছে কে?

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়লো ৭ টাকা

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়লো ৭ টাকা

বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২

 

 

১০১ বার পড়া হয়েছে

প্রিয় পাঠকঃসবকিছু ছাপিয়ে দেশের আলোচনায় এখন ভোজ্যতেল।কোন কিছুতেই লাগাম টানা যাচ্ছেনা নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের।দফায় দফায় বৈঠক,হুমকী-ধমকী,জেল জরিমানা কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা।চলছে দোষ চাপাচাপি।দায় নিতে রাজি নয় কেউ। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে ভোজ্যতেল নিয়ে খেলছে কে?

ভোক্তা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে জটিল সমীকরণের খেলা চলছে। বাজারে তেলের সরবরাহ কম। অনেক দোকানে বোতলজাত তেলও নেই। খুচরা ব্যবসায়ীরা দোষ চাপাচ্ছেন ডিলারের ঘাড়ে। ডিলাররা দোষ দিচ্ছেন মিল মালিকদের। একই চিত্র দেখা যায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে তেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকেও। প্রতিদিনই বৈঠক হয়। এতে দোকান মালিক সমিতি, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী ও ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সয়াবিন তেলের দাম প্রসঙ্গে জানতে চান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। এ সময় ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করলে মহাপরিচালক থামিয়ে দেন।

সফিকুজ্জামান ব্যবসায়ীদের কাছে মিল থেকে অতিরিক্ত দামে কেনার প্রমাণ হিসেবে পাকা রসিদের কথা বললেও তা অনেকের কাছে ছিল না। তাছাড়া বৈঠকে বেরিয়ে আসে, কতিপয় ডিলার মিল থেকে সাপ্লাই অর্ডার (এসও) নিলেও তা আরেক হাতে বিক্রি করে দেয়। কয়েক হাত বদল হয়ে অতিরিক্ত দামে ঢাকার বাইরে চলে যায় সেই তেল। যদিও ট্যারিফ কমিশন আইন অনুযায়ী এটা অবৈধ।

পাকা বিল নিয়ে ব্যবসায়ীরা অধিদফতরের কাছে কিছু সময় চান। অধিদফতর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেয়। সভায় ব্যবসায়ী নেতারা তেল বিক্রি বন্ধ করে দিলে দেশ অচল হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়ার চেষ্টা করলেও মহাপরিচালক বলেন– এখন সেই দিন নেই। এ সময় দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন কিছু দিনের জন্য অভিযান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান।

অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে মৌলভীবাজারের অনেক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা আর তেল বিক্রি করবো না। আজ বা কাল থেকে মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীরা যদি খুচরা পর্যায়ে তেল বিক্রি না করে আর এই বার্তা যদি ঢাকার অলিগলিতে যায় তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভয় পাবে, তারা মনে করবে তেলই হয়তো উধাও হয়ে গেছে। এজন্য আমাদের অনুরোধ—আমরা তো মাঠে আছি, একটু সময় দেন। আমাদের মিল গেটে নিয়োগ দিন। একটা কমিটি করুন। আমরা দেখি কয় গাড়ি তেল বের হয়। এই দায় আমাদের ঘাড়ে নিতে চাই না।

এসময় ভোক্তার মহাপরিচালক তার জবাবে বলেন, ‘আপনার অজান্তে বা জেনেশুনে বলে ফেলেছেন যে মৌলভীবাজার অচল হলে দেশ অচল হবে। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। তেল দিয়ে অচল করতে পারবেন না। আপনারা বলছেন মিলগেট থেকে তেল কম আসছে। কিন্তু আপনারা কত দিয়ে কিনছেন আর কততে বিক্রি করছেন সেটা বলেননি।’

ট্যাগ :

আরো পড়ুন